আবারও কৃষক আন্দোলনে উত্তাল ভারতের পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্ত। সকালে প্রায় ১৪ হাজার কৃষক দিল্লি অভিমুখে যাত্রা শুরু করলে তাদের ঠেকাতে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে পুলিশ।
শম্ভু সীমান্তে ড্রোনের মাধ্যমে কৃষকদের লক্ষ্য করে লাগাতার ছোড়া হয়েছে টিয়ার গ্যাসের শেল। নামানো হয়েছে আধা সামরিক বাহিনী। এই বিক্ষোভের ফলে পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে যে যানজট তৈরি হয়েছে তা সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে প্রশাসন।
দাবি আদায়ের লক্ষ্যে পাঞ্জাব ও হরিয়ানায় জড় হওয়া কৃষকদের ওপর টিয়ারগ্যাস, রাবার বুলেট ছুঁড়েছে পুলিশ। এ সময় হরিয়ানার খানৌরি সীমান্তে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্তত ১৬০ কৃষক আহত হয়েছেন।
কৃষকদের দল এআইকেএস (সর্বভারতীয় কিষাণ সভা) অভিযোগ করে জানিয়েছে, পুলিশের ছোড়া কাঁদানে গ্যাসের শেলের আঘাতে তার মৃত্যু হয়েছে।
এতে করে কৃষকরাও দুই দিনের জন্য দিল্লিতে তাদের প্রতিবাদ মিছিল স্থগিত করেছে, যদিও অবস্থান বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে।
পাতিয়ালার রাজেন্দ্র হাসপাতালের সিনিয়র মেডিকেল অফিসার ডাঃ রেখি জানান, খানৌরি থেকে আমাদের কাছে তিনজন রোগী এসেছে। তাদের মধ্যে একজন আসার সময় মারা গেছে, বাকি দুজন স্থিতিশীল এবং মনে হচ্ছে যথাক্রমে মাথায় ও উরুতে বুলেটের আঘাত লেগেছে, তবে তা নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালে আসার আগে ওই ব্যক্তি মারা গিয়েছিল। তার মাথায় বুলেটের আঘাত ছিল, তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত ময়নাতদন্তের পরেই নিশ্চিত করা যাবে।
এদিকে সরকারের দেওয়া ভুট্টা, তুলা এবং তিন ধরনের ডাল কেনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেন কৃষক নেতারা। তারা বলেছেন, ৫ বছরের এ চুক্তিতে শুধুমাত্র কয়েকটি ফসল অন্তর্ভুক্ত করে ১৮টি ফসলকে উপেক্ষা করেছে সরকার।
এছাড়া, নূন্যতম সহায়তা মূল্য পেতে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ফসল উৎপাদনের কথা জানিয়েছে কেন্দ্র। চন্ডীগড়ে কৃষক নেতাদের সাথে চার দফা আলোচনার পর এ প্রস্তাব দেয় সরকার।
এদিকে, ন্যূনতম সহায়ক মূল্যের আইনি নিশ্চয়তা, কৃষি ঋণ মওকুফসহ কেন্দ্রের কাছে নিজেদের একাধিক দাবি পৌঁছে দিতে মঙ্গলবার থেকে দিল্লি চলো কর্মসূচি চালাচ্ছে কৃষকরা। বুধবার পাঞ্চাব-হরিয়ানা সীমান্তে ১২শ ট্রাক নিয়ে জড়ো হন ১৪ হাজার কৃষক।